অতিমাড়ির জেরে বন্ধ থাকছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার ৪৬০ বছরের প্রাচীন রাস মেলা

প্রত্যেক বছর জেলার পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ময়নার রাস মেলায় ভিড় জমাতেন সাধারণ মানুষজন। রাসের দিন থেকে শুরু করে প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতো রাস মেলা। ময়না রাস উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার রাস উৎসবের মূল উদ্যোক্তা এলাকার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হয় এখানকার রাস উৎসব। একসময় স্থানীয় ময়নাগড় রাজবাড়ীর তত্ত্বাবধানে এই রাস উৎসব হলেও বর্তমানে তা এলাকার হিন্দু-মুসলমানদের তত্ত্বাবধানেই হয়। তবে এই বছরে সেই চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান পরিস্থিতির উপোর নজর দিয়ে , করোনা সংক্রমণ এড়াতে রাস উৎসবে মেলা বন্ধের কথা জানিয়ে দিল কতৃপক্ষ। তবে মেলা বন্ধ হলেও প্রাচীন সমস্ত রীতিনীতি মেনেই পালন করা হবে রাস উৎসব । সুরক্ষা বিধি মেনে হবে নৌ- রাসযাত্রা। একাদশীর ভোরে ময়না গড়ের বাহুবলীন্দ্র রাজপরিবারের কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউর রাস যাত্রা শুরু হবে। এই দিন থেকেই পরপর আট দিন ভোরে গড়ের মূল মন্দির থেকে নৌকা সহযোগে গড়ের বাইরে রাস মঞ্চে নিয়ে আসা হবে কুলদেবতাকে। আবার সন্ধের আগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে মন্দিরে। আর পূর্ণিমার দিন নিয়ম মেনে সুসজ্জিত নৌকায় করে গড়ের পরিখায় নৌবিহার করবেন শ্যামসুন্দর জিউ। এখানেও থাকবে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি। আগত পুণ্যার্থীদের যাতে সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা যায় সেজন্য থাকবে ভলেন্টিয়ার। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেবাহুবলীন্দ্র পরিবারের সদস্য সিদ্ধার্থ বাহুবলীন্দ্র বলেন, “ময়নার রাস এবার ৪৬০ বছরে পা দেবে। করোনার কারণে এই প্রথম মেলা হবে না। সুরক্ষা-বিধি মেনে শুধুই কুলদেবতার নৌ-রাসযাত্রা হবে। তাতে  শঙ্খবাদিকা ও কীর্তনের দল থাকবে শুধু। থাকবে না শোভাযাত্রা।”

https://youtu.be/L5VK43m_DJ0

Covid

Co