ফের এক অমানবিক ছবি হাওড়ার প্রকাশ্য রাস্তায়, ৭২ ঘণ্টা পড়ে থেকে মৃত্যু হলো একঅজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির

ফের এক অমানবিক ছবি উঠে এলো আমাদের ক্যামেরায়। ঘটনাটি হাওড়ার তেলকল এলাকার। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ৩ দিন আগে দুপুরবেলা, এলাকা যখন ফাঁকা থাকে তখন টোটো করে এসে কিছু লোক এক অসহায় অসুস্থ মানুষকে ফেলে দেয় হাওড়ার তেলকল ঘাটের কাছে ফুটপাতের উপরে। তারপর থেকে টানা ৭২ ঘন্টা মানুষটি পড়ে রইল প্রকাশ্য রাজ পথের ধারে ফুটপাতে। করোনা আবহে কাউকে পাওয়া গেল না ওই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়াতে। অভিযোগ, হাওড়া থানাতে বারংবার বিষয়টি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছেন পেট্রলিং- এ থাকা পুলিশের গাড়িকেও। কিন্তু কোনভাবেই সাড়া মেলেনি প্রশাসনের দিক থেকে। যেমন নির্বিকার ছিলো এলাকার মানুষজন, তেমনই নির্বিকার ভূমিকা পালন করেছে প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রাই খেয়াল করেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন অসহায়, অশক্ত, অসুস্থ ওই অপরিচিত ব্যক্তি। ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা স্বঘোষিত সমাজসেবী, তাদের কেউ না কেউ নিশ্চয়ই এই অঞ্চলেও থাকেন, তারা কি করলেন টানা ৭২ ঘন্টা? চোখের সামনে একটা মানুষ তিল তিল করে মারা গেল, কেউ এক বোতল জলও দূর থেকে এগিয়ে দেবার সাহস পেলেন না? মোবাইলে ছবি তুলে, অন্তত একটা পোস্ট দিতে পারতেন, তাহলে নিশ্চয়ই নজরে আসতো পানিহাটির সুদীপ রায় অথবা অনুপম দত্তের মতো কোন মানুষের, কোন একটা ব্যবস্থা হতো ওই মানুষটির। আর এলাকার মানুষ আমাদের সাংবাদিককেও খবর দিলেন, যখন মানুষটার দেহে আর প্রাণ নেই। তাই কিছু করতে পারলাম না আমরাও। ক্যামেরা ভর্তি ধিক্কার নিয়ে আমরা সেই মৃত মানুষের ছবিটাই তুলে আনলাম, আর আমাদের পৌঁছে যাবার খবরে নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন। রাস্তার ধার থেকে মৃত মানুষের দেহটিকে তুলে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা হলো তড়িঘড়ি। এই ব্যবস্থা টা যদি একটু আগে হতো, তাহলে হয়তো বাঁচানো যেত আমাদের এক সহ নাগরিককে। শুধু পুলিশ আর কত করবে, এবার বোধহয় সময় হয়েছে সত্যিকারের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরীক্ষা দেবার, নাহলে এরকম ভাবেই আমরা হারিয়ে ফেলবো আমাদের হাজার হাজার সহ নাগরিককে। একবার নিজেকেই প্রশ্ন করে দেখা যাক ‘একা বাঁচা যায় কি’?

https://youtu.be/G5rtODOLMeg

Covid

Co