প্রবল জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভোগা বৃদ্ধের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু অভিযোগ আমডাঙ্গা হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

আমডাঙার মরিচা, মাসুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা বছর ৭২- এর প্রহ্লাদ দাস বেশ কয়েকদিন ধরেই ভুগছিলেন প্রবল জ্বর ও শ্বাসকষ্টে। এদিন তার পরিবারের লোকজনেরা অতি কষ্টে গাড়ি জোগাড় করে তাকে নিয়ে আসে আমডাঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে। অভিযোগ, প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করেও হাসপাতালের কোন চিকিৎসককে তারা রাজি করাতে পারেননি অসুস্থ বৃদ্ধার চিকিৎসার। খুব তোষামোদের পর, কোনক্রমে তার লালা রস সংগ্রহ করে নিয়ে যায় হাসপাতাল কর্মীরা। তারপর থেকে অসুস্থ বৃদ্ধের ঠাঁই হয় হাসপাতালের বাইরে, হাসপাতালে ট্রলিতে। অভিযোগ, পরিবারের লোকজনেরা বারংবার চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করলেও, তারা ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা করতে রাজি হননি। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় আমডাঙ্গা থানায়। সেখান থেকেও মেলেনি কোনো সহযোগিতার হাত। অবশেষে প্রায় দু-আড়াই ঘণ্টা হাসপাতাল চত্বরেই বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। আর মৃত্যুর পর দেখা যায় হাসপাতালের কিছু কর্মী কোন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই মৃতদেহটি হাসপাতালের ট্রলি থেকে কংক্রিটের বসার জায়গায় নামিয়ে রেখে ট্রলি নিয়ে চলে যান। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর এক আত্মীয় বিপ্রতীপ দাস জানালেন, তারা ঘন্টার পর ঘন্টা চিকিৎসকদের কাছে অনুনয় বিনয় করেও তাদের রোগীর কাছে একজন চিকিৎসককেও আনতে পারেননি, পান নি থানা থেকেও কোনো সহযোগিতা। পরে ফোনে হাসপাতালের বি এম ও এইচ তরুণ বালা জানান,”মৃত বৃদ্ধ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন নি, এসেছিলেন লালারস পরীক্ষা করাতে, লালারস তো সংগ্রহ করা হয়েইছে”! কি অকাট্য যুক্তি মাননীয় আধিকারিকের! একজন মানুষ যদি অন্য কোন রোগীর সাথে হাসপাতালে পৌঁছে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার কি কোনো চিকিৎসা হবে না হাসপাতালে? আর প্রল্হাদ দাস তো অসুস্থ অবস্খাতেই এসেছিলেন, লালারস সংগ্রহ হয়ে যাবার পর তো চিকিৎসকদের কর্তব্য ছিলো তার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। মুখ্যমন্ত্রী এলাকায় এলাকায় গ্রামীণ হাসপাতাল নামের যে সুন্দর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, সেগুলি কি চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মীদের বিশ্রামাগার, নাকি আড্ডা মারার জায়গা? এখন প্রশ্ন সেটাই!

https://youtu.be/zRsRDZzVmMQ

Covid

Co