ফিরে দেখা, ব্রিটিশদের চোখে “বিপজ্জনক বিপ্লবী” প্রয়াত শম্ভুনাথ দত্তের জীবন

চারি দিকে যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ধুম। লাল, গেরুয়া, সবুজ শিবির মাতোয়ারা আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের মতো করে দেশের স্বাধীনতার ৭৪ তম বর্ষ উদযাপনে, তখন আমরা হাজির হয়েছিলাম অগ্নিযুগের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী বারাসতের প্রয়াত শম্ভুনাথ দত্তের বাড়িতে। তার অনুপস্থিতিতেও যে বাড়ি বহন করে চলেছে নেতাজি মাস্টারদা প্রমুখের স্মৃতি। শতায়ু শম্ভুনাথ দত্ত প্রয়াত হয়েছেন গত বছর, কিন্তু পিছনে রেখে গেছেন তার জীবনের এক উজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাস। আজকের দিনে সেই ইতিহাসকেই সামনে তুলে আনতে আমরা হাজির হয়েছিলাম নেতাজি, মাস্টারদার সহযোগী, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম সারির যোদ্ধা, ব্রিটিশ সরকারের চোখে “বিপজ্জনক বিপ্লবী” বারাসতের শম্ভুনাথ ভট্টাচার্যের বাড়িতে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে জড়িয়ে পড়েছিলেন চরমপন্থী সশস্ত্র সংগ্রামের সাথে। সঙ্গী ছিলেন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের সেই ঐতিহাসিক সময় মাস্টারদা সূর্য সেনের। প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন সেই অভিযানে। যোগ ছিল অনুশীলন সমিতির সাথেও। পরবর্তী সময়ে দেশত্যাগী হয়ে যখন বার্মা বা বর্তমান মায়ানমারে দিন কাটাচ্ছিলেন আত্মগোপন করে, তখন সংস্পর্শে আসেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের, যোগ দেন আই এন এ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে। নেতাজির যোগ্য সহচর হয়ে ওঠেন কিছু দিনের মধ্যেই। জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন ব্রিটিশ কারাগারের অন্ধকারে। কিন্তু চোখে ছিল স্বাধীনতার আলো দেখার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন সত্যি হবার পরেও তিনি ছেড়ে আসেননি নেতাজির প্রতি আনুগত্য; জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস করতেন “তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি।” স্বাধীনতা-উত্তরকালে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার সহ পেয়েছেন বহু জাতীয় পুরস্কার, সম্মান । কিন্তু তা তাকে টলাতে পারেনি মানুষের প্রতি অগাধ দায়িত্ববোধ আর সেবার পথ থেকে। আমৃত্যু তিনি নিয়োজিত ছিলেন সেই কাজেই। যোগ দেননি কোন সংসদীয় রাজনৈতিক দলে। নিজের তিন ছেলে মেয়েকেও প্রাণিত করেছেন মাস্টারদা আর নেতাজির আদর্শে। আর দেশের বর্তমান সংকট সময়ে, তার মৃত্যুর পরে, তার, যে স্বাধীনতা সংগ্রামী পেনশনের টাকায় চলত চারজনের সংসার; সেটাও বন্ধ। কিন্তু হার মানতে শেখেননি তাঁর সন্তানেরাও, রয়েছেন সমাজের অবহেলিত মানুষের সাথেই। আমরা কথা বলেছিলাম প্রণম্য সংগ্রামী, দেশপ্রেমিক সেই মানুষটার বড় মেয়ে মিঠু দত্তের সাথে, তিনি জানালেন “বাবা আমৃত্যু বিশ্বাস করে গেছেন, তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি এবং সে কথা তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে ছিলেন মুখার্জি কমিশনেও।”

https://youtu.be/jFeBdwFenX4

Covid

Co