সরকারী হাসপাতালে চরম উদাসীনতা, করোনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারকে না জানিয়েই দাহ দেহ, সুস্থ বলে অন্য রোগীকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে গিয়ে ধরা পড়লো ভুল

খড়দহের বাসিন্দা মোহিনী মোহন মুখার্জী, পেশায় আইনজীবী মোহিনী মোহন মুখোপাধ্যায় করোন আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় বলরাম সেবা মন্দির হাসপাতালে ভর্তি হন চিকিৎসার জন্য।তারপর থেকে মাঝে মাঝেই হাসপাতাল থেকে আক্রান্তের ছেলে সন্দীপ মুখার্জীকে ফোন করে জানানো হতো তার বাবা অসংলগ্ন কথা বলছেন, নাম ভুল বলছেন ইত্যাদি।বিষয়টি পরিষ্কার করতে সন্দীপবাবু হাসপাতালে গিয়ে তার বাবার যাবতীয় সচিত্র পরিচয় পত্র জমাও দিয়ে আসেন। এরপর গতকাল তাকে হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয় ‘মোহিনী মোহন মুখার্জী’ সুস্থ হয়ে গেছেন, তাকে যেন পরিবারের লোকজনেরা এসে বাড়ি নিয়ে যায়। এরপরই ঝুলি থেকে বার হয়ে আসে বেড়াল, কারণ সন্দীপবাবুদের কাছে তার বাবা বলে যে বৃদ্ধকে তুলে দেওয়া হয় তিনি আদৌ মোহিনী মোহন মুখার্জী নন।বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গেলে খবর যায় খরদহ পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক কাজল সিনহার কাছে। তিনি আসলে জানা যায়,মোহিনী মোহন মুখার্জীর মৃত্যু হয়েছে গত ১৩ই নভেম্বর তার দাহকার্যও সম্পন্ন হয়ে গেছে ১৫ ই নভেম্বর। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে বৃদ্ধকে মোহিনী মোহন মুখার্জী বলে চিকিৎসা করছিলেন, তিনি আসলে বিরাটির বাসিন্দা শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুলে বদল হয়ে গেছিলো প্রায় সমবয়সী দুই রোগীর কাগজপত্র।
মৃত মোহিনী মোহন মুখার্জীর ছেলে সন্দীপ মুখার্জী দাবী করলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির।
খরদহ পৌরসভার মুখ্য প্রশাসক কাজল সিনহা জানালেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সিএমওএইচ ‘র তত্ত্বাবধানে গঠিত হয়েছে একটি তদন্ত দল, দোষীদের অবশ্যই শাস্তি হবে।
তদন্ত হবে, দোষীদের শাস্তি হবে, সবটাই মেনে নেওয়া গেলো। কিন্তু সরকারী হাসপাতালে যে চরম অবহেলার উদাহরণ উঠে এলো এ ঘটনায়,তাতে এরপর সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি সাধারণের আস্থা ফেরাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা কিন্তু অজানাই থেকে গেলো, অন্তত এই প্রতিবেদন প্রচার হবার আগে পর্যন্ত।

https://youtu.be/KyLrOewi6ns

Covid

Co