ধর্ষণের মিথ্যে অভিযোগে আড়াই মাস জেলে কাটলো অভিযুক্তের

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কেরালার মলপ্পুরম জেলায় হোমনার্স হিসেবে কর্মরত এক মহিলা এক হেলথ ইনস্পেক্টর এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। গত ৩০ আগস্ট অভিযোগকারিণী কল্লাম জেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওই হেল্থ ইন্সপেক্টর এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। করোনা পরিস্থিতির দরুন আন্তর্জেলা সফর করতে হতো অভিযোগকারিণী মহিলাকে। তার জন্য কোভিড টেস্ট করাতেই ওই হেল্থ ইন্সপেক্টর এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি কোভিড পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে ওই মহিলাকে তিরুবনন্তপুরম জেলার গ্রামে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ দায়ের করেন ওই নার্স। অভিযোগকারিণী জানান, ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে ভয়ানক অত্যাচার করা হয়েছে। খাটে দুই হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে ভয়ানক নির্যাতন করা হয়েছে তাকে। ধর্ষণের কথা কাউকে না জানানোর হুমকি ও তাকে দিয়েছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি। ৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্রেফতার করে অভিযুক্তকে। তার চাকরিও চলে যায়।
গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে জেলে আছেন। তার জামিনের আর্জি ও দুইবার খারিজ করে দেয় আদালত। এদিন তৃতীয় দফার জামিনের আর্জি শুনানিতে অভিযোগকারিণী তার অভিযোগ তুলে নেন। তিনি জানান ধর্ষণ নয়, পরস্পরের সম্মতিতেই হয়েছিল যৌন সম্পর্ক। পরিবারের চাপে ওই হেল্থ ইন্সপেক্টর এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন তিনি। তিনি জানান, এই মামলা তিনি আর এগিয়ে নিয়ে যেতে চান না।
অভিযোগকারিণীর বয়ানের পর গত আড়াই মাস জেলে কাটানোর পর অভিযুক্তকে মুক্ত করে কেরালা হাইকোর্ট। কেরালা হাইকোর্ট জানিয়েছে, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে একজন ৭৭ দিন জেলে কাটিয়েছেন এই বিষয়ে কোর্ট চুপ থাকতে পারে না।

Covid

Co