জ্বরে মৃত এক বৃদ্ধের শেষ যাত্রায় শামিল হয়ে ঘরছাড়া দেগঙ্গার ৪ যুবক, একঘরে মৃতের পরিবারও

দেগঙ্গার বাসিন্দা সুশীল ঘোষ জ্বর নিয়ে ভর্তি হন বারাসতের একটি নার্সিংহোমে। সেখানে তার করোনা উপসর্গ দেখা দেবার ফলে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে। সেখানে গত আঠাশে জুলাই মৃত্যু হয় তার। ২৯ শে জুলাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে ফোন করে জানায় মৃতের করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ। ফলে সেদিন তার ছেলেরা ও তাদের চার বন্ধু হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে কলকাতা নিমতলা শ্মশানঘাটে দাহ করে। ঘটনার সূত্রপাত হয় তারপরেই, শ্মশান থেকে ফেরা মৃতের ছেলে সহ তার চার বন্ধুকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয় বেশকিছু গ্রামবাসী। পরে অনুনয়-বিনয়ের ফলে মৃতের ছেলেকে বাড়িতে ঢুকতে দিলেও টেনে দেওয়া হয় লক্ষণ রেখা, মা পার করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গ্রামের মাতব্বরেরা। আর শ্মশান যাত্রী চার বন্ধুকে বার করে দেওয়া হয় গ্রাম থেকে। গত প্রায় দশ দিন ধরে নিরপরাধ সেই সুস্থ মানুষ গুলি দিন কাটাচ্ছেন গ্রামের সীমান্তে একটি পুকুর পাড়ের ভাঙাচোরা একটি গুমটিতে। অভিযোগ, কেউ খাবার বা জল দিতে আসলেও তাদের মারধর করা হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে হুমকি। এমনকি মৃতের বাড়িতে আরো দুজন জ্বরে কাতরাচ্ছে, কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যন্ত করা যাচ্ছে না তাদের। সব মিলিয়ে এক প্রাগৈতিহাসিক যুগের যেন প্রত্যাবর্তন ঘটেছে দেগঙ্গায়।

https://youtu.be/Ayaoa0B70H0

Covid

Co