শাসনে পথের ধারে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একাকি পড়ে রইলেন এক বৃদ্ধা, করোনার ভয় সাহায্যের হাত বাড়ালো না কেউ

https://youtu.be/_p_TgZAS4yE

একাকী বৃদ্ধা, হয়তো ভবঘুরে, ঘোরাঘুরি করেন হয়তো এ পাড়ায় সে পাড়ায়, পরনে একটা আস্ত কাপড় যার কাছে নেই, সম্বল বলতে কারো উচ্ছিষ্ট একটা জলের বোতল, সেই বৃদ্ধার যে ঘরবাড়ি থাকবে না তা আমাদের রাম জন্মভূমিতে খুব একটা আশ্চর্যের বিষয় নয়। এটা দেখেও আমরা অত্যন্ত আশ্চর্য নই যে, শাসনের বকুন্ডা এলাকায় বড় সড়কের ধারে টানা ২৪ ঘন্টা বৃষ্টি মাথায় করে বৃদ্ধা পড়ে রয়েছেন একাকী। কারণ যে বা যারা এদের দুর্দশা ঘোচাতে প্রাণ উৎসর্গ করার ব্রত নিয়েছেন নানান রঙে নিজেদের রাঙিয়ে, তাদের কত কাজ ছিলো গত ২৪ ঘন্টায় বলুনতো? কেউ ব্যস্ত মন্দির রচনায়, কেউ ছিলেন অন্য কাজে। সময় কোথায় তাদের এই বৃদ্ধা বা এর মতো ভবঘুরেদের কথা ভাববার? কারণ,নিন্দুক জানাচ্ছে, এর কাছে তো ভোটার কার্ড নেই, মানে ভোট দিতে পারেন না, সুতরাং উচ্ছন্নে যাক এরা! ভোটাররা তুষ্ট থাকলেই যথেষ্ট। বেচারা পুলিশ, নিধিরাম সর্দারের মতো ভ্যান নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে, একজন অসুস্থ মানুষকে এই করোনা আবহেও যদি পুলিশকে উদ্ধার করতে হয়, তাহলে নিন্দুকের প্রশ্ন, কোথায় গেল প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধ দল ? কোথায় গেলো সেই সমস্ত দুলাখি ক্লাবগুলো, তারা কি গত চার মাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারি সাহায্যের টাকায় দু’চারটে পি পি ই কিট পর্যন্ত কিনতে পারেননি? যদি কোন সময়ে দরকার লাগে, তাহলে ব্যবহার করার জন্য! পানিহাটির সুদীপ রায় যা পারেন, কেন পারলেন না শাসনের কেউ! প্রশ্নটা উঠলো এই কারণেই, কারণ করোনা নিয়ে অতিপ্রচারের ঠেলায়, মানুষ এখন করোনাকে নিশ্চিত যমদূত বলে ভাবা শুরু করেছে। আর তার দায় আমাদের সংবাদ মাধ্যমেরও কম নয়। কারণ শহর কলকাতার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টুডিওতে বসে, কোটি কোটি টাকা রোজগার করা চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে, এমন একটা ভাবনা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে করোনা মানেই অচ্ছুৎ। আসলে যে সেটা নয়, তার প্রমান তো সুদীপ রায়। এ ঘটনার পরেও প্রশাসনের শীর্ষে বসে থাকা মানুষগুলোর একটু লজ্জা বোধ হয় না? মুখ লুকোতে ইচ্ছে করে না আড়ালে? অবশ্য যদি মুখ থাকে, কারণ সবটাইতো মুখোশে ঢাকা। এলাকার যুবকদের বক্তব্য, সামান্য পি পি ই কিটের অভাবে তারা পারছেন না মহিলার কাছে যেতে।শেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চাপে শাসন থানার পুলিশ প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে বারাসাত জেলা হাসপাতালে।

Covid

Co