প্রয়াত হলেন পানিহাটি পৌরসভা প্রাক্তন পৌর প্রধান, বর্তমান পৌর প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপার্সন স্বপন ঘোষ

শ্রী স্বপন ঘোষ, বাড়ি সোদপুর ঈশ্বর চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। ছেলেবেলা থেকেই ঈশ্বর মানুষই ছিলো তার একমাত্র আরাধ্য। জাতীয়তাবাদী পরিবারের ছেলে হিসেবে ছাত্রাবস্থাতেই যোগদান রাজনীতিতে। দাদা নির্মল ঘোষ রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। কিন্তু সেদিকে না তাকিয়ে স্বপন ঘোষ তার ব্যবহারে, তার ঔদার্য্যে, তার রাজনৈতিক পরিশীলতা বোধে অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে ওঠেন পানিহাটির মন্টুদা। দাদা নির্মল ঘোষ কখনো বিধায়ক, কখনো দলের জেলা সভাপতি, যুক্ত শ্রমিক আন্দোলনের সর্বভারতীয় নেতৃত্তের সাথে। কিন্তু দাদার শূন্য জায়গা কোনদিন খালি হতে দেননি মন্টুদা। ঈশ্বর চ্যাটার্জী স্ট্রিটের বাড়ির দরাজ উঠোনে, ভাঙা একটা চেয়ারে বসে দিনরাত এক করেছেন দলের কাজে। কোন কিছুতেই অবশ্য না ছিলো না সন্ন্যাসী সম মন্টুদার। মিটিয়েছেন দলের তো বটেই, পানিহাটির যেকোনো মানুষের আব্দার।সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ বামেদের দোর্দণ্ড শাসনকালে ১৯৮৮ সালে। পৌরনির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে জয় লাভ করেন বাম প্রার্থীকে হারিয়ে। এরপর ১৯৯৩ সালেও তিনি পৌর প্রতিনিধি, ১৯৯৮ সালে ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হয়ে যাবার ফলে সেখান থেকে নিজের হাতে জিতিয়ে আনেন দলীয় প্রার্থীকে।২০০৩ সালে অবশ্য মন্টুদাকে হারের স্বাদ পেতে হয়, যা নিয়ে আছে অনেক বিতর্কও। সে যাই হোক, এরপর ২০১৩ সালে ১১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে স্বপন ঘোষ হাল ধরেন পানিহাটি পৌরসভার। দীর্ঘ পাঁচ বছর সাফল্যের সাথে কাজ করে বিদায় নেন ২০১৮ সালে। নির্বাচন না হবার ফলে রাজ্য সরকার সম্প্রতি তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছিল পৌরসভার প্রশাসক মন্ডলীর প্রধান হিসেবে। কিন্তু সেকেন্ড ইনিংস শুরু করার আর সময় পেলেন না মন্টুদা, পড়ে রইলো অনেক কাজ, মানুষের অনেক স্বপ্ন। আর শেষ পর্যন্ত করোনার কাছে হার মেনে মাত্র ৬৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করলেন তিনি।

https://youtu.be/RwzATSWG8Rw

Covid

Co