বাঁশ দিয়ে ইকো ফ্রেন্ডলি স্যানিটাইজার স্ট্যান্ড তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিলেন শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের দুই কর্মী

করোনা ভাইরাসের তান্ডবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়িঘর, অফিস কাছারি তো বটেই, মানুষের জীবনে সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠেছে স্যানিটাইজার। ঠিক সেই কারণেই শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ উদ্যানের অফিস ও গেস্ট হাউজের জন্য স্যানিটাইজার স্ট্যান্ড কেনার পরিকল্পনা করে। তখনই বাঁশ থেকে স্ট্যান্ড বানানোর ভাবনাচিন্তা শুরু করেন উদ্যানের কর্মী চন্দ্রশেখর শর্মা । আর ২০শে মে আমফান ঝড়ের তান্ডব এখনো ভোলেনি বাংলার মানুষ। এই ঘূর্ণিঝড় অনেক জায়গার মতো, লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল শিবপুর আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যানকে। অগুনতি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেখানে, যার মধ্যে রয়েছে বহু প্রজাতির বাঁশ ও মেহগনি গাছ। এই বাঁশগুলো কাজে লাগিয়ে সুন্দর ইকো ফ্রেন্ডলি স্যানিটাইজার স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলেছেন চন্দ্রশেখর শর্মা। তাকে সহযোগিতা করেছেন আর এক কর্মী শর্মা গাঞ্জু। চন্দ্রশেখর বাবু অসমের বাসিন্দা হওয়ায়, সেখানে ডেলো বাঁশ ব্যবহার করে বহু জিনিস বানানোর বিষয়ে অবগত ছিলেন। আর শিবপুর বি গার্ডেনে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেইসব বাঁশ দিয়েই চার ফুটের স্যানিটাইজার স্ট্যান্ড বানিয়ে ফেলেন, যার বেস্ বা নিচের অংশটি তৈরি করা হয়েছে মেহগনি গাছের কান্ড দিয়ে। ইতিমধ্যে পনেরোটি স্ট্যান্ড তৈরি হয়ে গেছে যা বাজারে পাওয়া প্লাস্টিকের কন্টেনার দিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করা হলেও, পরবর্তীতে বাঁশের কন্টেনার থাকবে স্ট্যান্ডগুলিতে। বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিভিন্ন অফিসে এমনই ইকো ফ্রেন্ডলি স্ট্যান্ড কিছুদিনের মধ্যেই শোভা পাবে। চন্দ্রশেখর বাবুর মতে, তার এই আইডিয়া, কুটির শিল্প হিসেবে কাজে লাগিয়ে অনেকেই রোজগার করতে পারবেন। পাশাপাশি শোভা বৃদ্ধিতেও কাজে লাগবে বাঁশের তৈরি অপূর্ব সুন্দর এই স্যানিটাইজার স্ট্যান্ড।

https://youtu.be/Lpc-dnwC94M

Covid

Co