বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে কি করবেন কি করবেন না-জেনে নিন

ইয়াস এর প্রভাব কাটতে না কাটতেই ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করেছে বর্ষা , আর কিছুদিনের মধ্যে দক্ষিনবঙ্গেও ঢুকে পড়তে চলেছে বর্ষা। আর তার আগে থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ সোমবারের কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাজ্যজুড়ে বাজ পরে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। আর এতেই চিন্তার ভাজ গভীর হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের , কারণ মাত্র কয়েক ঘন্টার বৃষ্টি আর তাতেই এতো জনের প্রাণহানি। আমরা বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ , আবহাওয়াবিদদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম মেঘের গর্জন আর বজ্রপাতের প্রাবল্য এতো বেশি কেন? তার উত্তর – গতকাল বিকেলে পুঞ্জীভূত মেঘের সারি একটার পর একটা জমা হয়েছিল , আর সেই বারিদপুঞ্জ দখল নিয়ে নেয় দক্ষিণবঙ্গের আকাশ। পুঞ্জীভূত মেঘ যেভাবে একের পর জমা হতে থাকে, তার ফলেই ব্যাপক বজ্রপাত এর সাক্ষী রইলো দক্ষিণবঙ্গবাসী। যদিও আহহওয়াবিদরা জানিয়েছেন , বর্ষার মেঘ ঢোকার সময় এইরকম হওয়াটা স্বাভাবিক।
কিন্তু আমরা যে দিকে এই মুহূর্তে নজর রাখবো সেটা হলো বজ্রাঘাতে প্রাণহানি , রাজ্যজুড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হুগলির ,মারা গিয়েছেন ১১ জন। তাছাড়াও মুশিদাবাদে ৯ জনের ,দুই মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়াতে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। বজ্রপাত শুরু হলে আমাদের কি করা উচিত তা নিয়ে আমরা কথা বলেছিলাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের আধিকারিকদের সাথে। প্রথমত বজ্রপাতের সময় যারা বাড়ির বাইরে থাকবেন – ১) তারা সম্ভব হলে কোনো পাকা বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করবেন। দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
২) খোলা জায়গায় কোনো বড় গাছের নিচে ভুলেও আশ্রয় নেবেন না। গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
৩) উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব খুঁটি এবং মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪) বজ্রপাতের সময় যানবাহনের মধ্যে থাকলে , যানবাহনের থাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটিকে নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।
৫) বজ্রপাতের সময় জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করতে হবে।
৬) বজ্রপাতের সময় কোনোভাবেই কোনো খোলা জায়গা, মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকবেন না। যদি নিতান্তই খোলা জায়গায় থাকেন তাহলে বজ্রপাতের সময় পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।
৭) নদী, পুকুর, ডোবা এবং জলাশয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
৮)আর যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বৈদ্যুতিক তারের নিচ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।
আর যদি অতি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বার হতেই হয় বজ্রপাত বৃষ্টির মধ্যেও তাহলে অবশ্যই রাবারের জুতো পরে বাইরে বের হতে হবে। ঝড় বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির ছোট সদস্যের বাইরে বার করা যাবেনা এবংআমাদের প্রিয় দর্শকদের প্রতি অনুরোধ আপনারাও বাড়ি থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হবেন না।
যারা বাড়িতে থাকেন তাদেরকেও বেশ কয়েকটি দিকে নজর দিয়ে চলতে হবে –
যেমন – ১) বজ্রপাতের ও ঝড়ের সময় বাড়ির কোনো ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।
২) কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক ঘরে না থেকে আলাদা আলাদা ঘরে থাকবেন।
৩) বাজ পরে বিভিন্ন সময় বাড়ির বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায় , তা রুখতে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
৪) বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি বা বারান্দায় থাকবেন না এবং ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকেও দূরে থাকতে হবে।
আর আপনার কোনো প্রিয়জন তড়িদাহত হলে কি করবেন জেনে নিন –
১) সময় নষ্ট না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সাহায্য এবং পরামর্শ নিতে হবে।
২) আর যেটা বলে রাখা ভালো তড়িদাহত ব্যক্তিকে ছোয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ।
৩) ঠান্ডা আবহাওয়ায় আহত ব্যক্তিকে মাটিতে শোয়াবেন না , একটা চাদর পেতে সোয়াতে হবে। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবেনা।
৪) চিকিৎসক আসার আগেই আহত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে মুখ দিয়ে বাতাস দিতে থাকুন।

Covid

Co