MADE IN INDIA-র পথে আরও এক পা এগোলো INDIA

বিশ্বের অটোমোবাইল নির্মাতা কোম্পানিগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভারতীয় কোম্পানি টাটা মোটোর্স এর তৈরী বাস ২০০৪ সাল থেকে ভারতকে গর্বিত করে ছুটে চলেছে ইউক্রেনের রাস্তায়। হ্যাঁ, আগেরদিন মেড ইন ইন্ডিয়ার উদাহরণ হিসেবে এই কাহিনীই আমরা শুনিয়েছিলাম আপনাদের। আর এবার মেড ইন ইন্ডিয়া বা আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও এক পা এগোলো ভারত সরকার।আসুন দেখেনি কি পদক্ষেপ নিলো ভারত সরকার।
জিনিসপত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতে যে স্টিল কন্টেইনারগুলি এতদিন ধরে ব্যবহৃত হত তার সবটাই আমদানি করা হতো চীন থেকে। প্রতিবছর চীন থেকে প্রায় ১০,০০০ কনটেইনার আমদানি করতো ভারত সরকার।প্রতি কনটেইনার পিছু ২.৫৯ লক্ষ্ টাকা দিতে হতো ভারত সরকারকে।অর্থাৎ, প্রতি বছর ১০,০০০টি কনটেইনারের পিছনে ২০০ কোটিরও বেশি টাকা চীনকে দিতো ভারত। কিন্তু জানলে অবাক হবেন,এই কন্টেইনার গুলি যে স্টিল থেকে তৈরী হতো ,সেগুলি ভারত থেকেই আমদানি করতো চীন। অর্থাৎ,ভারত থেকেই আমদানি করা স্টিল দিয়ে তৈরী কনটেইনার আবার ভারতের কাছেই বিক্রি করতো চীন সরকার।এখানেই শেষ নয়। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ৬ মাসের সমীক্ষা অনুসারে ২০২০ সালে ইন্ডিয়ান স্টিল সব থেকে বেশি রপ্তানি করা হয়েছে চীনে। অর্থাৎ চীন বর্তমানে ইন্ডিয়ান স্টিলের সর্ববৃহৎ ক্রেতা। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভারত থেকে রপ্তানি করা ৬.৫ মিলিয়ন টন স্টিলের মধ্যে ১.৯ মিলিয়ন টনই আমদানি করেছে চীন সরকার। ভাবতে পারছেন,ভারত থেকে আমদানি করা স্টিল থেকে তৈরী কনটেইনার ভারতের কাছেই বিক্রি করে কিভাবে টাকা কামাচ্ছিলো চীন সরকার?
তবে এবার মেড ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পকে আরো প্রসারিত করে তুলতে চীন থেকে আমদানি করা কনটেইনার গুলির আমদানি রদ করতে চলেছে ভারত সরকার। এবার ভারতের মাটিতেই তৈরী করা হবে এই কনটেইনারগুলি। সূত্রের খবর অনুসারে,এবার থেকে সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় কোম্পানি BRAITHWAITE এবং Bharat Heavy Electricals Limited বা BHEL, ভারতেই ম্যানুফ্যাকচার করবে এই স্টিলের কনটেইনার গুলি। হিসেবে করলে দেখা যাচ্ছে,যেই মূল্য দিয়ে ভারতকে চীনের থেকে কনটেইনার গুলি কিনতে হতো, সেই মূল্যেই ভারতে ম্যানুফ্যাকচার করা যাবে কনটেইনারগুলি। তবে ভারতে কনটেইনার গুলি ম্যানুফ্যাকচার করতে যদি খরচ কিছুটা বেশিও হয়,তাহলেও এই পথেই এগোবে ভারত সরকার,এমনটাই শোনা যাচ্ছে।প্রসঙ্গত বলে রাখি, এমনটা নয় যে এর আগে ভারতে এই স্টিলের কনটেইনার গুলি ম্যানুফ্যাকচার করা হতো না। বামার লরি, নাথানি ও HYUNDAI -এই তিনটে কোম্পানি ভারতে স্টিলের কনটেইনার গুলি ম্যানুফ্যাকচার করতো।কিন্তু চীন খুবই সস্তায় সেগুলি ভারতে রপ্তানি করা শুরু করলে, দেশীয় কোম্পানিগুলি কন্টেইনার গুলির ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করে দেয়। শুধু ভারতই নয়, বিশ্বের অন্যান্য এরকম অনেক দেশ আছে যেখানে চীন খুব সস্তায় স্টিলের কনটেইনার রপ্তানি করার ফলে দেশগুলি ধীরে ধীরে নিজেদের ম্যানুফ্যাচারিং বন্ধ করে দেয়। কনটেইনারের পাশাপাশি ভারতের সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিতেও ছেয়ে গেছে চীনের সস্তার জিনিস। ভারতের সাইকেল নির্মাতা কোম্পানি গুলি সাইকেল তৈরির পার্টস গুলির জন্য নির্ভরশীল হয়ে পরে চীনের সস্তার পার্টস নির্মাণকারী কোম্পানিগুলির উপর। চীন থেকে পার্টসগুলো সস্তায় আমদানি করতে পারার ফলে তারা ভারতের থেকে চীনের কোম্পানিগুলির উপরেই বেশি নির্ভরশীল। অর্থাৎ হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, মেড ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সরকারের পাশাপাশি হাল ধরতে হবে আমাদেরকেও। চীনের সস্তার জিনিসের লোভ ছেড়ে নিজের দেশে উৎপন্ন দেশীয় জিনিসগুলোকে আপন করে নিতে হবে। আর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে ভারতকে।

Covid

Co