রহস্যে ঘেরা বারমুডা!

বিশ্বের রহস্যময় কতগুলি টপিকের মধ্যে অন্যতম হলো বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। রহস্যময়ের পাশাপাশি ভয়াবহও বটে।
আসুন দেখেনি,বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ঠিক কোন জায়গায় অবস্থিত।
বিশ্বের ম্যাপে ফ্লোরিডা ,বারমুডা ও পুয়ের্টো রিকো – এই তিনটি স্থান যোগ করলে যে ত্রিভুজাকার অঞ্চলটির সৃষ্টি হয়, সেই অঞ্চলটিই হলো বারমুডা ট্রাইএঙ্গেল।
বিশ্বের নানান বিশেষজ্ঞরা নানান নাম দিয়েছেন এই জায়গাটিকে। কেউ কেউ বলেন,THE DEVIL’S TRIANGLE, কেউ আবার THE HOODOO SEA,আবার কেউ বলেন THE LIMBO OF THE LOST .
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল হলো উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম অংশের এমন একটি স্থান, যেখানে বহু শতাব্দী ধরে বহু সংখ্যক প্লেন ও জাহাজ মানুষসহ রহস্যজনকভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর পিছনে রহস্যতা কি?তা এখনো জানা যায়নি।
কিন্তু আজ আমরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে কথা বলছি কেন ?কারণ একটাই, রহস্যজনকভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
গত বছর,অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৮শে ডিসেম্বর ২০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বোট বাহামাস এর বিমিনি থেকে রওনা দিয়েছিলো। ২৯শে ডিসেম্বর বোটটির ফ্লোরিডার লেক ওয়ার্থে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু মাঝপথেই মিসিং হয়ে যায় বোটটি। এখনো অবধি কোনো হদিশ মেলেনি তার । সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইউএস কোস্টগার্ডরা সমুদ্রে প্রায় সতেরো হাজার স্কোয়ার মাইল জুড়ে বোটটির খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু না,খোঁজ মেলেনি তাতেও। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এরিয়ায় নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে বোটটি। সূত্রের খবর,তল্লাশি স্থগিত রেখেছে ইউএস কোস্টগার্ডরা।
এই ঘটনার পর ফের একবার মানুষের মনে চাগাড় দিয়ে উঠছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এরিয়ায় এতদিন অবধি ৭৫টি এয়ারক্রাফট,প্রায় ১০০তীর বেশি জাহাজ এবং প্রায় ১০০০ জনের বেশি মানুষ উধাও হয়ে গিয়েছে। এই রহস্যের পিছনে নানান বিশেষজ্ঞরা নানান রকমের যুক্তি দেখিয়েছেন। মানুষের মুখে মুখে ভিন্ন ধরণের ধারণা প্রচলিত। তবে ২০১৬ সালে কলোরাডো ইউনিভার্সিটির একদল বৈজ্ঞানিক এর উত্থাপিত একটি তত্ত্ব বর্তমানে সর্বজনবিদিত। তারা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এরিয়াটির স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে, ওই অঞ্চলটিতে কতকগুলি হেক্সাগোনাল ক্লাউডস এর উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে। যা তাদের মতে বায়বীয় বোমার আকার ধারণ করে, যা প্রতি ঘন্টায় ১৭০ মাইল বেগে ঝড়ের সৃষ্টি করতে পারে। একে বৈজ্ঞানিক ভাষায় হারিকেন ফোর্স উইন্ডস বলা হয়। এই ঝড়ের প্রভাবে ভূমি থেকে সমুদ্রতরঙ্গের উচ্চতা ৪৫ ফুট অবধি পৌঁছাতে পারে। ফলে কোনো বিমান বা জাহাজই এই ভয়াবহ ঝড় থেকে আজ অবধি পরিত্রান পায়নি। বৈজ্ঞানিকদের মতানুসারে, মেঘ সাধারণত সরলরৈখিক প্রান্ত দ্বারা তৈরী হয় না। কিন্তু এক্ষেত্রে হেক্সাগোনাল ক্লাউড অর্থাৎ ষড়ভুজাকার মেঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ, ইহা একেবারেই ব্যতিক্রম একটি ঘটনা।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যের পিছনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিকদের খাড়া করা একাধিক তত্ত্বের মধ্যে, এই তত্ত্বটিই সবথেকে বেশি যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ বারমুডা ট্র্যাঙ্গেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পিছনে কোনো ভৌতিক কারণ নেই, এর পিছনেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

Covid

Co