পেট্রাপোল-বেনাপোল জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনি ( Story of Petrapole Benapole joint retreat ceremony)

পেট্রাপোল হলো পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত ভারত – বাংলাদেশের একটি চেকপয়েন্ট। কলকাতা থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দূরে জাতীয় সড়ক-৩৫ এর ওপর অবস্থিত এই পেট্রাপোল সীমান্ত। আর বেনাপোল হলো আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি পৌরশহর।এই বেনাপোল অঞ্চলের মধ্যে দিয়েই ভারত বাংলাদেশের মধ্যেকার ট্রেন চলাচল করে।বলতে গেলে,পেট্রাপোলের বিপরীতে বাংলাদেশের অংশটিই পরিচিত বেনাপোল নামে।
এবার আপনাদের বলি আজ আমরা কি নিয়ে কথা বলবো! জানেন কি এই ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে গত প্রায় ৮ বছর ধরে একটি প্রথা চালু রয়েছে যা হলো, সীমান্ত অঞ্চলে দিনের শুরুতে দুই দেশের উত্তোলিত পতাকা বিকেল ৫ টার সময় নামানো হয় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এই অনুষ্ঠানটি পরিচিত পেট্রাপোল-বেনাপোল জয়েন্ট রিট্রিট সেরামনি নামে। ফরাসি ভাষায় এই রিট্রিট শব্দটির অর্থ হলো একটি কাজের দিনের অবসান, আর সেইভাবেই একটি কাজের দিনের শেষে নিজ নিজ দেশের পতাকা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নামিয়ে ফেলেন দুই দেশের সেনাবাহিনী।কুচকাওয়াজ, প্যারেড এর মাধ্যমে দুটি দেশ যেভাবে মিলে-মিশে কাজটি সম্পন্ন করে তা সত্যিই নজিরবহীন ঘটনা। এক কথায় বলতে গেলে দুই দেশ মিলিত হয় সৌভ্রাতৃত্বএর বন্ধনে।
সালটা ২০১৩, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেট্রাপোল-বেনাপোল জয়েন্ট রিট্রিট অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সেই ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয় দৈনন্দিন এই অনুষ্ঠানের পরম্পরা। এই জয়েন্ট রিট্রিট অনুষ্ঠানটি বিকেলে ৩০ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করে BSF এবং BGB. নিয়ম অনুযায়ী, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার গেটটি খুলে দেওয়া হয়, তারপর বিএসএফ এবং বিজিবি এর পদাতিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ হ্যান্ডশেক হয়. আর তারপরেই শুরু হয় অনুষ্ঠান। দুই দেশের সেনাবাহিনী তাদের আনুষ্ঠানিক পোশাক এবং যুদ্ধক্ষেত্রের পোশাকে পরিহিত হয়ে উপস্থিত হন নো ম্যান’স ল্যান্ডে। তারপর শুরু হয় উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্যারেড অনুষ্ঠান, সূর্যাস্তের আগেই এই প্যারেড শেষ হয়, তারপর ধীরে ধীরে নামিয়ে নেওয়া হয় দুই দেশের পতাকা। পতাকা নামিয়ে নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে ভাজ করে দেশের পতাকা নিয়ে যাওয়া হয় যথাস্থানে। এরপর সেই দিনের মতো বন্ধ করে দেওয়া হয় সীমানা।
দৈনন্দিন এই অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষ আসেন শুধুমাত্র এই সুন্দর সৌভাতৃত্বের দৃশ্য চাক্ষুষ করতে। এর মাঝে কোরোনার জন্য বেশকিছু মাস বন্ধ ছিল এই রিট্রিট অনুষ্ঠান, বর্তমানে করোনার প্রভাব কমতেই ফের শুরু হয়েছে ইন্দো-বাংলাদেশের সৌভাতৃত্বের এই অনুষ্ঠান।
কিন্তু শুধুমাত্র যে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তেই এই ধরণের রিট্রিট অনুষ্ঠান হয় তা নয়, এই একই রিট্রিট অনুষ্ঠান পালিত হয় ভারত-ওয়াঘা সীমান্তেও। তবে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের মতো সৌভ্রাতৃত্বএর দৃশ্য ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে লক্ষ করা যায়না। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে রিট্রিট অনুষ্ঠানের সময় যেন দুই দেশ একাকার হয়ে যায় সৌভ্রাতৃত্বএর বন্ধনে।

Covid

Co