প্রাইভেসি পলিসির ফাঁদে পরে তবে কি এবার আমজনতা ত্যাগ করবে সাধের হোয়াটস্যাপ?

সারাদেশ জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কথাটি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো হোয়াটস্যাপ এবং প্রাইভেসি পলিসি। আসুন দেখেনি কিএমন প্রাইভেসি পলিসি চেঞ্জ হলো যার জন্য সংশয় বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে?
জনতা জনার্দন এর জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট,আর তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হল হোয়াটস্যাপ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপটি। ফ্যামিলি গ্রুপ এ শুভ সকাল লেখা থেকে শুরু করে নিজের প্রিয় মানুষটি কে গুড নাইট বলা কিংবা খুব গুরুত্বপূর্ন কোনো নিউজ আদান-প্রদান বা পুরোনো বন্ধুদের কোন গ্রুপে মিম শেয়ার সবই হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই।কিন্তু হোয়াটস্যাপের নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে সংশয় বাড়ছে জনসাধারণের মনে।বেশ কিছুদিন ধরে গ্রাহকদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হচ্ছে,সেখানে বলা হয়েছে এবার থেকে হোয়াটসঅ্যাপ এর বেশ কিছু টার্মস এবং পলিসি অর্থাৎ শর্ত এবং গোপনীয়তার নীতিতে বদল আনা হচ্ছে, আর সেই বদলে যদি গ্রাহকেরা সম্মত না হন তাহলে ৮ই ফেব্রুয়ারির পর সেই গ্রাহকের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। শর্তে যা বলা হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে , এবার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে যা চ্যাট করা হবে, যা তথ্য আদান প্রদান করা হবে, সেই তথ্য হোয়াটসঅ্যাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না ,সেই তথ্য পৌঁছে যাবে ফেসবুকের হাতে।
কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে যা বোঝা যাচ্ছে সত্যিই কি তাই?
২০১৪ সালে ১৯ বিলিয়ন ডলার দিয়ে ফেসবুক কিনে নিয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপকে। ২০১৬ সালে ক্রিপ্টোগ্রাফার মক্সি মার্লিনস্পাইক হোয়াটসাপে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের ফীচার আনেন। যার মানে,হোয়াটসাপে আমরা অপর পক্ষের সাথে যে চ্যাট করছি বা তথ্য আদানপ্রদান করছি ,তা পড়তে পারবে একমাত্র অপর পক্ষের লোকই। সেই চ্যাট বা তথ্যের হদিশ কোনো ভাবেই পৌঁছবে না ফেসবুকের কাছে। সমস্যা সেখানে নয়। সমস্যা হলো,যদি আমরা কোনো বিজনেস একাউন্ট অথবা ব্যাংকের সাথে হোয়াটসাপের থ্রু তে যোগাযোগ করি,সেই বিজনেস একাউন্ট বা ব্যাংক তখন আমাদের সাথে হোয়াটসাপে যোগাযোগ করার জন্য একটি থার্ড পার্টি টুলের সাহায্য নেয়। আর আমাদের ব্যাংকিং এর সেই তথ্য বা বিজনেস ডিটেলস পৌঁছে যায় সেই থার্ড পার্টি বিজনেসের কাছেও। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আমাদের প্রধান ভাবনার কারণ হওয়া উচিত ডেটা ব্রিচিং বা হ্যাকিং। লিঙ্কেডিন বা জোম্যাটোর মতো অ্যাপেও থাবা বসিয়েছে হ্যাকার্সরা। এইসব অ্যাপগুলি থেকে আমাদের তথ্য চুরি হয়েছে হ্যাকার্সদের মাধ্যমে। ডেটা ব্রিচিং হলে হ্যাকার্সদের কাছে আমাদের পাসওয়ার্ডস বা ব্যাংকিং ডিটেলস বা অর্থনৈতিক লেনদেনের মতো সমস্ত তথ্যই পৌঁছে যায়। ভয়টা সেখানেই।
তবে কি এবার হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে অন্য কোন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার শুরু করতে চলেছে আমজনতা ?
হ্যাঁ, ঠিক এমন তথ্যই উঠে আসছে সমীক্ষাতে। সমীক্ষা অনুযায়ী হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে এবার অন্য পথে পা বাড়াচ্ছে আপামর দেশবাসী । সেই অন্য পথটা হল সিগন্যাল এর মত মেসেজিং অ্যাপ ।২০১৪ সালে হোয়াটসাপকে ফেসবুক কিনে নেওয়ার পর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ চেয়েছিলো হোয়াটসাপে বিভিন্ন অ্যাড দেখাতে ।
কিন্তু হোয়াটসাপের কো ফাউন্ডার ব্রিয়ান অ্যাকটন অ্যাড দেখানোর বিরোধী ছিলেন। তাই তিনি হোয়াটস্যাপএর প্রতিষ্ঠাতা পদ থেকে বেরিয়ে আসেন। ।আর বেরিয়ে এসে তিনি মক্সি মার্লিনস্পাইকের সাথে মিলিতভাবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে লঞ্চ করেন সিগন্যাল অ্যাপ। বেশকিছুদিন আগে স্পেস একসের সিইও এলন মাস্ক টুইটারে সিগন্যাল অ্যাপটি এন্ডোর্স করার পর হুহু করে বেড়ে চলেছে সিগন্যাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা। শুধুমাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৭৫ লাখ বেড়ে যায় সিগন্যাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা। সিগন্যাল অ্যাপটিতেও ক্রিপ্টোগ্রাফার মক্সি মার্লিনস্পাইক এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের ফীচার সংযুক্ত করেছেন। তাই বর্তমানে জনসাধারণের ভরসা বাড়ছে সিগন্যাল অ্যাপটির প্রতি।
তবে কি গ্রাহকদের উচিত এখনই হোয়াটস্যাপ ছেড়ে অন্য মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার শুরু করে দেওয়া?
না, সমীক্ষা অনুযায়ী যে তথ্য উঠে আসছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে হোয়াটস্যাপ আমাদের রোজকার কথোপকথনে কোনো প্রভাব ফেলছে না এখনই, নতুন পলিসির প্রভাব পড়ছে শুধুমাত্র বিসনেস একাউন্ট এবং থার্ড পার্টি টুল ব্যবহার করে যারা অর্থনৈতিক লেনদেন করেন তাদের ওপরে। সুতরাং আমাদের আগের থেকে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ব্যাঙ্ক এর যাবতীয় ডিটেলস কিংবা অর্থনৈতিক লেনদেনের কথা আর কোনোভাবেই হোয়াটসাপের মাধ্যমে আদানপ্রদান করা যাবেনা। তার জন্য গ্রাহকেরা ব্যবহার করতেই পারেন সিগন্যাল অ্যাপ। কারণ সিগন্যাল অ্যাপ বর্তমানে হোয়াটসাপের তুলনায় অবশ্যই অধিক সুরক্ষিত।

Covid

Co